টুকরো কথা

(১)
আকাশে মেঘ উড়ু উড়ু
কাঁপছে বুক দুরু দুরু
একাকী বসে
কবিতা লিখছে একটি গরু..
(২)
ওভাবে বোলোনা
তাতে নেড়ী কুকুর মনে হয়
মাদী কুকুরের পিছনে
যেন ছুটে চলা কার্তিক
ওভাবে বোলোনা
এতে ভালোবাসা প্রেম
নিমিষেই কার্তিক হয়ে যায়..
(৩)
গোধূলীর পড়ন্ত বেলায়,
হাতে হাত রেখে
সন্ধ্যার লুকোচুরিতে
একান্ত মনে
রাত্রির নিরবতায়
চুপি চুপি কানে কানে
ভোরের স্নিগ্ধতায়
রূপালী আদরে
শুধু তোমাকে চাই..

চোখের তারা

সত্যি করে বলি
বাম কানেতে চিমটি কেটে
বলছি সব হৃদয় থেকে
ঠিকানা তার
মনের অলিগলি..
এই ভবের এই পান্থশালায়
জীবনটাকে থমকে দিয়ে
যে ছবিটি চোখের তারায়
সে তো শুধুই তুমি…

অচেনা পথে

অনেক দূর চলে এসেছি
একবারও পিছু ফিরে দেখিনি
ফিরে যেতে দেখি
গোধূলীর লাল ফুরিয়ে গেছে
পশ্চিমে আধার নেমেছে গগনে
কতটা বসন্ত অপেক্ষায় থেকেছি
ভালোবাসার খামখেয়ালে বন্দী হতে
আসোনি তুমি
তোমাদের ভীড়ে তাকে খুঁজে পাইনি..

আকাশ ও বৃষ্টির কথা

ঠিক আছে আকাশ হলাম
তুমি বৃষ্টি হবে
যখন তখন এই মনেতে
ভালোলাগার পরশ দেবে
যদি আকাশের মন খারাপ হয়ে যায় কখনো
সাদা শুভ্র মেঘে ঢেকে দেবে সব
সবকিছু আড়াল করে রিমঝিম নূপুরের ছন্দ শোনাবে
অকৃপণ বিশালতায় বেঁধে দেবে সীমারেখা
আকাশের বুকে বৃষ্টির অবাধ বিচরণ
সারাবেলা সারাক্ষণ..

প্রিয়তমা

এসো আমার হৃদয়ে
চুপি চুপি এ বুকের মাঝে
প্রেমারংগে তোমার ছবি
সুখের পরশ তুলি দিয়ে আঁকবো।
ভেজা ভেজা জোসনা রাতে
বেলী ফুলের পাঁপড়ি দিযে
দুজনার বাসর সাজিয়ে
পৃথিবী উজার করে সুখ দেব।
এসো আমার হৃদযে
একাকি নির্জনে এ অবুঝ মনে
মনের মাধুরী দিয়ে
ভালোবাসার সাতরঙে তোমায়
রাঙিগয়ে দেব, চুমিযে দেব
তোমার ক্লান্ত দু’চোখ
ভালোলাগার এক অনাবিল সুখে
ভরে দেব তোমার হৃদয়।
এসো আমার হৃদয়ে
নির্জন কোন নদীর পাশে
রূপালী চাঁদকে সাথে নিয়ে
শুধু দুজনে জেগে রব..

তোমাকে চাই

সময়ের প্রতিটি এককে
ন্যানো, পিকো সেকেন্ডে
ভালোলাগার প্রতিটি অনুভবে
আমার চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন চাই
চাই তোমার সবটুকু অস্তিত্বের সাথে
মিলে মিশে একাকার হতে
যেমনটি এই আমি
আমার প্রতিটি রক্তকণার পাশে
তোমায় অনুভব করি
ঠিক তেমনি কোষ-কোষান্তরে
শিরা উপশিরা ধমনীতে
স্নায়ুতন্ত্রের বার্তাবহনে
প্রতিটি হৃদস্পন্দনে তোমার
আমার অনুভবতা চাই
শতকোটি লোমকূপ
রোমকূপ আর ঘর্মগ্রন্থির
প্রতিটি ঘামের কণা হয়ে
তোমাতে যেথায় সেথায়
শিক্ত পরশ বুলিযে যাই..

একা একা

প্রতিদিন
রাতের নিস্তব্ধতা
আর নিসঙ্গতাকে সাথী করে
কতো পথ পাড়ি দিয়ে
এখন শুধু একা একা
তবু
অবিরাম শূন্যতাকে বয়ে বেড়ানো
নিয়ম ভাঙ্গার দলে যারা
প্রকৃতি তাদের দিয়েছে
ভোরের অপরূপ স্নিগ্ধতা
বুঝিনা
জীবনের দিকে এগিয়ে যাই
নাকি সমাপ্তির দিকে
এভাবেই একদিন আর এক শূন্যতায়
সব ছেড়ে চলে যাওয়া..

ইচ্ছে

মাঝে মাঝে মনে হয়
তোমায় নিয়ে চলে যাই
দূর কোন স্বপ্নপুড়িতে
যেখানে থাকবেনা কোলাহল
হবেনা লুকোচুরি
শুধু তুমি আর আমি অনন্তকাল
হাতে হাত রেখে হেটে বেড়াবো
কাশফুলে ছেঁয়ে যাওয়া কোন নদীর ধারে

অথবা কোন গহীন বনে সোনালী রোদ্দুরে
অথবা কোন পাড়াগাঁয়ে
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ছুটোছুটি করছে যেখানে

অথবা কোন সৈকতে
নুড়ি আর ঝিনুক কুড়াবো দুজনে
আমাদের ভিজিয়ে দেবে পানির ঝাপটা
দূরে-বহুদূরে
দেখা যাবে লাল টকটকে সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে
লাল আভায় দেখবো
তোমার রাঙানো মুখখানি..

নেই তুমি

প্রতিদিন প্রতি পলকে তুমি নেই
চাঁদের আলোয়, জোসনায় ভেসে
তোমায় খুঁজে যাই
জানালায় দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দেই
বৃষ্টির ফোঁটায় যেন
তোমার স্পর্শ পাই
তুমি নেই পাশে
হৃদয় প্লাবনে ভেসে যায়
শুধু শুধু কেঁদে যায়
একা একা অবেলায়..

আপনাকেই বলছি

আসলে কখন যে – কি মাথায় আসে তার ঠিক নেই। তাই ভেবেছিলাম যদি কিছু কথা বা লেখা সংরক্ষণ করে রাখা যায়, অন্তত নিজের জন্যই। কতো লেখাই তো এদিক সেদিক পরে থাকে, কতো ভাবনাই তো মাথায় ঘুরতে থাকে, থাকনা সেগুলে সবমিলে একখানে।
যদি সাথেই থাকেন তো আপনার না হোক কিছুটা আমিই বরং উপকৃত হবো।

আপনি ঘুরে গেলেন, আমি কৃতজ্ঞ, ধন্য।