প্রোগ্রামিং এ মনোযোগ ধরে রাখতে ৩টি কৌশল

প্রোগ্রামিং করার সময় ধৈর্য্য ধরে রাখাই একটা চ্যালেন্জ। লম্বা সময় সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে একদম সমস্যার ভিতরে ঐ সময় পর্যন্ত থাকতে হয়, যতক্ষন সমাধান না হয়। এই আর্টিকেলে কিছু টিপস দিচ্ছি, প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। কাজ হয়।

 

১. কোডিং করতেছেন এমন সময় একটা complexity আসল। ব্যাস সমস্যা শুরু, আর চিন্তা করতে ইচ্ছা করেনা। দেখবেন যখনই প্রবলেম আসে তখনই সেখানে সময় ব্যায় বাদ দিয়ে ফেসবুক বা অনলাইন পত্রিকায় চলে গেছেন। তখন মনোযোগ কোডিং এ ধরে রাখতে সাথে সাথে চেয়ার থেকে উঠে যান, ১/১.৫ মিনিট এদিক ওদিক হেটে এসে আবার বসুন। দেখবেন আবার কোডিং এ মাথা ঘামানোর এনার্জি চলে এসেছে। গ্যারান্টি।

 

২. ব্যাক্তিগত প্রজেক্টে কাজ করার সময়, বেশি প্লান করিয়েন না। যেমন আজকে সারাদিনে অমুক অমুক কাজ করব, আজকেই লগিন সিস্টেমটা কমপ্লিট করব, ডেটাবেসের ডিজাইনটা আজই শেষ করব ইত্যাদি। বেশি প্লান করে বসলে সেদিন আর কোন কাজই হয়না। অল্প অল্প কাজ করুন কিন্তু প্রতিদিন করুন। প্রতিদিন ছোট একটা কাজ হলেও করুন।

 

৩. সামাজিক সাইটগুলিতে থাকুন তবে শুধু ব্রাউজিং এর জন্য নয় বরং এসব ব্যবহার করে নিজের উপর চাপ বৃদ্ধি করুন। বিভিন্ন সাইটে কিংবা ব্লগে আর্টিকেল লিখুন। নিজের কোড শেয়ার করুন। stackoverflow কিংবা এরুপ জায়গাগুলিতে জড়িয়ে পড়ুন। যখনি আপনার আর্টিকেলে অনেক মন্তব্য পড়বে, মানুষ এটা ওটা প্রশ্ন করবে তখনি কোডিং এর স্পৃহা বাড়বে। চিন্তা করতে বাধ্য হয়ে যাবেন।

 

মোদ্দাকথা হল রিলাক্স হয়ে কাজ করতে হবে। তারাহুরা করে চিন্তা করলে গভীরে যাওয়া যায়না। এই রিলাক্স মুড আনতে যে কাজ করা দরকার সেটাই করতে হবে।

কেন প্রোগ্রামিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিবেন??

যেকোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ভালভাবে শিখতে বেগ পেতে হবে ঠিকই তবে এর পরিনতি সুস্বাদু। প্রোগ্রামার এর চাহিদা পৃথিবীতে কখনই কমবেনা বরং দিনদিন সব কিছুই অটোমেটেড তথা মেশিন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। প্রত্যেকটি ডিডিজটাল সিস্টেমে সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক আর তাই প্রোগ্রামারও আবশ্যক। প্রোগ্রামিং “ক্যারিয়ার” হিসেবে কেন রোমাঞ্চকর তার ১০০ টারও বেশি কারন দেখাতে পারি। নিচে কয়েকটি আলোচনা করা

 

কারন ১ : প্রোগ্রামিং এমন একটা জিনিস, ভালভাবে শিখলে হিরো। এটা কোন খেলা নয় যে আজকে ভাল খেললেন তো হিরো, কাল ফর্ম নেই তো জিরো। কোডিং শেখাটা সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ধৈর্য্যের ব্যাপার। মনে হতে পারে এতদিন ধরে শিখছি কিন্তু আউটপুট তো জিরো। এই ZERO টেম্পরারি বাট শিখে গেলে HERO পার্মানেন্ট।

 

কারন ২ : যেকোন একটা ল্যাংগুয়েজ ভালভাবে শিখলেই হবে, তবে ল্যাংগুয়েজটি মেইনস্ট্রিম ল্যাংগুয়েজ হতে হবে যেমন জাভা, সি, পিএইচপি, পাইথন কিংবা এরুপ কোন ল্যাংগুয়েজ। ১টা ভালভাবে শেখার কথা এজন্য বললাম কারন পৃথিবীর সব মেইনস্ট্রিম ল্যাংগুয়েজ একই শুধু সিনট্যাক্স এবং টুকিটাকি এটা সেটা পার্থক্য। তাই যেকোন সময় ল্যাংগুয়েজ switch করা মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যাপার। আপনি যদি একটা ল্যাংগুয়েজ এ এক্সপার্ট হন তাহলে এরপর যেকোন ল্যাংগুয়েজ শিখতে ১ সপ্তাহের বেশি লাগবেনা। তবে হ্যা নতুন যে ল্যাংগুয়েজ শিখলেন সেই ল্যাংগুয়েজের কোন এক্সপার্টের সাথে আপনার শুধু কিছু অভিজ্ঞতার পার্থক্য থাকবে সেটাও দ্রুত রিকভার করা যায়।

 

কারন ৩ : সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে এই সেক্টরে সার্টিফিকেটের তুলনায় ট্যালেন্ট এবং যোগ্যতার মুল্য বেশি। কাজ জানেন তো ডিগ্রী ছাড়াই হিরো যেমন জুকারবার্গ কিংবা বিল গেটসের কথা ভেবে দেখুন। আর কাজ না জানলে ডিগ্রী থাকলেও হয়রানি।

 

কারন ৪ : চাকরি যদি নাও করেন তবুও নিজেই একটা ইকমার্স প্রজেক্ট বাজারে ছেড়ে দিলেই তো এরপর শুধু মার্কেটিং এর কাজ, তারপর বসে বসে খাও।

কাজেই প্রোগ্রামিং কে ক্যারিয়ার বানান, ২/২.৫ বছর চ্যালেন্জ face করুন এরপর পাবলিকের টাকা আপনার পকেটে ঢুকান।

আউটসোর্সিং শিখতে চাইলে প্রথমেই যা জানা প্রয়োজন

. থিংক ট্যাংক হতে হবেপ্রফেশনাল জীবনে প্রতিদিন আপনাকে নতুন নতুন প্রবলেম সলভ করতে হবে। কাজেই পরনির্ভরশীলতা শূন্যতে আনতে হবে, মস্তিস্কের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। novice টাইপের প্রশ্ন করা যাবেনা যেমন “wrox পাবলিকেশনের অমুক বইটা নীলক্ষেতে কোথায় পাওয়া যাবে?” নীলক্ষেত ধানক্ষেতে কি? কোডক্ষেতে পড়ে থাকতে হবে। তাহলেই কাজ শিখবেন। চিন্তা করুন এই গুগল এবং stackoverflow থেকে সার্চ করে মানুষ কোটি কোটি ডলারের প্রজেক্ট করতেছে আর আমি কেন সার্চ দিয়ে একটা সামান্য বই বের করতে পারতেছিনা। হালুয়া খেতেই যদি দাত ভাঙ্গে, রুটি খাবেন কিভাবে??

 

. প্রজেক্ট করে করে শিখতে হয় টিউটোরিয়াল কিংবা বই পড়ে নয়যেকোন একটা প্রজেক্ট শুরু করুন এরপর সেটা করতে গিয়ে যেসব সমস্যায় পড়বেন সেটা সার্চ দিয়ে বের করতে হবে, এখন সমস্যাটির জন্য বই দেখতে পারেন । নতুন শিখতে গিয়ে এমন কোন সমস্যায় পড়বেন না যেটা পৃথিবীতে এখনও কেউ পড়েনি। কাজেই সার্চ করে সেটা বের করতে হবে। সার্চ করে সমস্যা সমাধান করা এতটুকু যোগ্যতা যতক্ষন না আসবে ততক্ষন প্রোগ্রামিং শেখার মহাসড়কেই উঠতে পারবেন না।

 

. কিভাবে ফোরামে প্রশ্ন করবেননিয়ম হচ্ছে যেকোন সমস্যায় পড়লে সেটা সলভ করার জন্য সম্ভ্যাব্য সকল চেষ্টা করতে হবে। কয়েক ঘন্টা সার্চ করলে, R & D করলে অবশ্যই সমাধান হবে। এরপরেও যদি না হয় তখন গিয়ে ফোরাম, stackoverflow ইত্যাদিতে গিয়ে প্রশ্ন করতে হয়। আমাদের সমস্যা হল কোন R & D না করে সরাসরি গিয়ে stackoverflow তে প্রশ্ন করি এবং এক্সপার্টরা দেখেই বোঝে সে কোন চেষ্টাই করেনি। ব্যাস তখনি মাইনাস দিয়ে দেয় ফলে হতাশ হয়ে আর প্রশ্ন করেনা। R & D করে এরপর সমাধান না হলে stackoverflow তে গিয়ে প্রশ্ন করে দেখুন, আপনার প্রশ্নে এক্সপার্টরাই আপভোটের হিরিক লাগাবে।

 

. প্রজেক্ট আইডিয়া: ইউজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম করতে পারেন। ইউজার লগিন রেজিস্ট্রেশন করবে। নিজের ছবি আপলোড করবে। ব্যাকইন্ডে সব ইউজার এডমিন ম্যানেজ করতে পারবে। একজন ইউজার আরেকজনকে ফ্রেন্ড হিসেবে add করতে পারবে ইত্যাদি ফাংশনালিটি সহ একটা প্রজেক্ট করতে পারেন।

কার জন্য

অধীর আগ্রহে উন্মত্ত হয়ে থাকি
ভরা পূর্ণিমার জন্য
কোথায় সে পূর্ণিমা
কোথায় সে তুমি..
কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর এ জীবন
তৃষ্ণার্তই থেকে গেল
আজন্ম লালিত চিরকাংখিত
কয়েকটি শব্দগুচ্ছের জন্য..
নি:সঙ্গ ভালোবাসা
বিষন্ন মনে আকাশের কাছে
নিজেকে বিলিয়ে দেয়া
বেদনার্ত রাতের ক্রন্দন হাজারো স্বপ্ন
অসহায় কষ্টনীল হয়ে থাকি
শুধু কি তারই জন্য…

তুমি আমি

আমি যেন ফড়িং
এ ডাল ও ডাল ঘুরে ফিরি
দিইনা ধরা
ভয়ে ভীষণ আতংকে
জানি কুতসিত বড় মাথার
আমায় কাছে ডাকবেনা
ভালোবাসবেনা..
যদি ধরেই ফেলো
লেজে সুতো লাগাবে
ডানা দু’টো ছিড়ে দেবে
আনন্দে নয়তো উল্লাসে..

তুমি যেন প্রজাপতি
সুশ্রী দেহপল্লব তোমার
সবাই তোমায় ভালোবাসে
তোমার দু’ডানায়
আদর সোহাগ দিয়ে
সুখ অনুভব করে
সুখের প্রতীক ভেবে
ঠাঁই দেয় হৃদয়ে
নিজের অপরূপতায়
আরো অহংকারী হও তুমি
উল্লাসে নয়তো সুখে..

যদি বুঝে থাকো

সাগরের গর্জন বুকে রেখেছি
হৃদয়ের ব্যাকুলতা বোঝাবো বলে
আকাশ থেকে প্রেম নিয়ে এসেছি
ভালোবাসবো বলে
হিমালয় পেরিয়ে যাবো
শুধু তোমার চোখে
অনন্তকাল চেয়ে থাকবো বলে…

জীবনের পূর্ণতা

তোমাকে কাছে পাবার
আগে যে জীবন ছিল
পাপের ছোঁয়া ছিল সত্য
ক্ষণিকের আনন্দ ছিল
ভালোবাসার হাহাকার ছিল..
শুধু ছিলনা
জীবনকে উপলব্ধি করার
সুস্থ চিন্তা চেতনা
যেন মুখ থুবড়ে পড়েছিলাম
অন্ধকার কোন গহ্বরে
আর এখন..
এখন শুধু মনে হয়
তুমি আমার কেবলি আমার
পেয়ে তাই হারাবার ভয়ে
আমি আত্মহারা সারাক্ষণ
আমি যে কতটা অনুভবতায়
গেঁথে যাই শব্দমালা ভালোবাসার
সে ভাবনাকে চিড়ে দিয়ে
যদি চলে যাও একা ফেলে
অপূর্ণ জীবনের পূর্ণতা
দেখা হবেনা কখনো আর…

জীবন যখন

(ছোট্ট)
এমন একটা বয়স ছিল
কার্টুন যখন প্রিয় ছিল
চঞ্চল শৈশব ছিল
থান্ডারক্যাট্‌স, ক্যাপ্টেন প্লানেট
টম এন্ড জেরী আর ডিজনী
ভালোলাগার মুহুর্ত ছিল।
..
(কৈশর)
এমন একটা বয়স ছিল
চন্দ্রকান্তা প্রিয় ছিল
উচ্ছল কৈশর ছিল
স্পেল বাইন্ডার অ্যাডভেঞ্চার
আর উপন্যাসে কৌতুহল ছিল।
..
(তারুণ্য)
এমন একটা বয়স ছিল
প্রচন্ড আবেগী মন ছিল
নানা রঙে মন রাঙ্গাবার
বড় বেশী ইচ্ছে ছিল।
..
(এখন)
এ কোন বয়স এলো
মিছে সবই পিছে পড়ে গেল
কবিতায় দুর্ভিক্ষ এলো
সব কামনা-বাসনা ঘুঁচে গেল
জীবনে অর্থের প্রয়োজন এলো
কাজে ভালোলাগা এলো।

বোঝেনা কেউ

যখন তুমি কাছে থাকো
স্বপ্নিল পৃথিবী যেন
সুখে ভরে উঠে..
সকল বাস্তবতা পিছে ফেলে
মনে হয় হতাশা বলে কিছু নেই
কোন চাওয়া পাওয়া আশা নেই
পূর্ণতায় কানায় কানায় ভরা
হৃদয় থেকে উপচে পড়ে প্রেম
কি যে পরম পাওয়া
কি যে ভালোলাগা-ভালোবাসা
বোঝেনা তো কেউ…

অভিমান

হৃদয় জুড়ে জড় নিশ্চল অভিমান
তোমায় যত খুজি হৃদয়ের সীমানায়
স্বপ্নগুলো বারবার পথ হারায়
যেন কল্পনার রং মেখে
যে স্বপ্নে নিশিদন পার হয়
অনুভুতির তীব্রতায় সুগভীর স্বপ্ন
আর আমার আদিম ভালোবাসা
আমাকে নিয়ত কাঁদায়..
হৃদয় মাঝে যে প্রদীপ
আলো জ্বলেনি কখনও
তুমি এসে ভালোবেসে
সে প্রদীপ দিয়েছো জ্বালায়ে
অজস্র এ স্মৃতিগুলো মোর
তোমাকে চিতকার করে বলতে চায়
যে স্বপ্নে এসেছো তুমি
তাকে ফেলে যেওনা কখনো…