ফ্রিলান্সিং বা আউটসোর্সিং গুজব | The myth about freelancing and outsourcing

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে – “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও নাহ”।

আশাকরি আপনারা সব্বাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। আপনারা নিশ্চয়ই “মাল্টি টাস্কিং” শব্দটা শুনেছেন। আমি যদি একটা মোটরসাইকেলে বসে যেতে যেতে আপনাদের সাথে কথা বলি তাহলে সেটা ঠিক মাল্টি টাস্কিং না। কিন্তু আমি যদি ঐ বাইকটা চালাতে চালাতে আপনাদের সাথে কথা বলি তাহলে সেইটা হবে একটা পিউর মাল্টি টাস্কিং। এখন অনেকেই হয়তো দ্বিমত করবেন যে একটা ভালো যোগ্যতা মাল্টি টাস্কিং, সেটাকে আমি সম্ভাব্য ভয়ঙ্কর একটা দুর্ঘটনার সাথে তুলনা করছি। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন। ফ্রীলান্সিং এ মাল্টি টাস্কিং একটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাদের জন্য যারা কেবল মাত্র শুরু করেছেন বা করতে যাচ্ছেন। কেন! তা একটু পরেই বলছি।

আই. টি সেক্টরে বাজ ওয়ার্ড হলো ফ্রীল্যানসিং এবং আউটসোর্সিং। কোন একটা বিষয়ে নিজেকে যোগ্য করে তোলার আগেই আমরা ভাবি “কোন সাইটে কাজ করা শুরু করব?”, “কোন লাইনে টাকা বেশি”, “এমন একটা ঢিল মারবো যে টাকা গ্যারগ্যার করে আসতে থাকবে।” এইরকম হাজারটা অবান্তর চিন্তা। আর এই চিন্তা আসবেই বা না কেন যেখানে কিছু সো কল্ড আই.টি ট্রেইনিং দেয়া কোম্পানিগুলো চটকদার বিজ্ঞাপনে নানান আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে – যে যেদিকে – যেভাবে পারছে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একটা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্টিকেল থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি, নাম বলবো নাহ। সেখানে রাইটার লিখেছেনঃ
“রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেনী।
সি পি এ মার্কেটিং এর নামে ডেটিং আর বেটিং অফার নিয়ে কাজ করে, ১০০% চিটার এরা, মানুষ কে হারাম কাজ শিখায়, অনেক টাকা ইনকাম হবে এমন লোভ দেখিয়ে ভর্তি করায়, বলে ২-৩ টা ক্লাস করলে ইনকাম এর ছড়াছড়ি, মানুষ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, তখন ভর্তি হয়, ধরা খেয়ে ফিরে আসে। এদের ক্লাসে ফেসবুক, টুইটারের ৪/৫ টা বেসিক ক্লাস ছাড়া কিছুই নাই।
অনলাইন আরো কিছু অ্যাড দেখবেন ১০০, ৫০০ বা ৫০ জনকে কাজ দিবো, টীম হয়ে কাজ করতে চান? এই আরেক বড় বাটপার, তাদের এতো দরদ কেন, তার কারণ আপনি তাদের আন্ডারে কাজ করবেন ওরা লাভবান হবে, অথবা তাদের রেফারেলে কাজ করবেন ওরা কমিশন পাবে। আবার অনেকে কোর্স করতে গিয়ে ধরা খায় , আবার ভিডিও দিবে বলে টাকা নিয়ে ব্লক মারে আরো কত কি !!!
আমার কথা হল, এত সহজে যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা কামানো যেত তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ স্রেফ টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে যার যার ঘরে বসে যেত, আর ডলার আয় করত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন।”

তো এই ছিলো সেই ভদ্রলোকের বিরক্তির চরম মাত্রার একটি লেখার অংশ বিশেষ।
তবে আমি দেখেছি কেউ কেউ আবার হাস্যকর স্টুডেন্টদের ইনকামের প্রুফ – ছবি সহ, ডলার ট্রান্সাকশনের ছবির তকমা লাগাচ্ছে। আরে ভাই এইসব কিছু তো পাবলিক ইনফর্মেশন। যেগুলো আপনিও যে কারো প্রোফাইলে গেলে তাঁর পোর্টফলিওতে দেখতে পাবেন। আর ডলার ট্রান্সাকশন! ইহা সত্যি সত্যিই এডিট করা যায়।

আমার এক বন্ধুকে কেমন আছিস জিজ্ঞেস করলেই বলতো “The rolling stone gathers no moss.”, ওর ভাষায় এর বাংলা মানে হলো “গড় গড়াইন্না পাথরে কখনও সেঁওলা জমে না”। আপনাকে ঠিক তেমন হতে হবে। কোথাও থেমে গেলে হবেনা। চলতেই হবে শুধু চলতেই হবে সফলতা না আসা পর্যন্ত। তারপর একদিন হয়তো ঠিকই অবসর যাপনই আপনার কাছে আর ভালো লাগবে না।

এবার আসি কাজের কথায়। একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে আপনি Graphic Design শিখতে পারেন, Web Design, Web Development, Mobile apps, SEO, Affiliate Marketing ও শিখতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?

আমার পরামর্শ হলো আপনি যদি একজন চারুকলা আর্টিস্ট হয়ে থাকেন তবে গ্রাফিক ডিজাইন দিয়ে শুরু করুন; অন্যথায় আপনি দক্ষ সব আর্টিস্টদের মাঝে অসহায় বোধ করবেন। Web design না শিখেই Web development, Mobile Apps শেখা যায় তবে হাইস্কুলটা না হয় পাশ করেই এডভান্স লেভেলে যান। SEO এবং Affiliate Marketing নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা হয়, অথচ এই সেক্টরে যারা সফল তারা বলছে যে কাজ শিখে সফলতা আসতে ৬মাস থেকে ১ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। আর আপনি চাইছেন কাল থেকেই ইনকাম শুরু। তাহলে ওয়েব ডিজাইনই আপনার একমাত্র ভরসা। আর এটা সর্বজন স্বীকৃত যে Web design আপনার অন্যান্য বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের রাস্তাটা অনেক সহজ করে দিবে।

তবে মনে রাখবেন এই বিষয়গুলো একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবেঃ

  • সিদ্ধান্তহীনতা
  • পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব
  • পোস্ট সেলকে গুরুত্ব না দেওয়া
  • হাল ছেড়ে দেয়া
  • অলসতা
  • কম টাকায় কোথায় ফ্রিল্যান্সিং শিখায় এই চিন্তা বাদ দেয়া।

আরে ভাই শুরুতেই মাসে বিশ পঞ্চাশ হাজার টাকার স্বপ্ন দেখছেন সেখানে কাজ শিখতে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচ করবেন না?
তা না হলে ভালো শিখবেন কিভাবে? প্রতারিত হবেন আবার ফিরে আসবেন, আবার অন্য কোথাও প্রতারিত হবেন কারণ আপনার লোভ বেশি, আপনি রাতারাতি বড়লোক হতে চান। আর হ্যাঁ শুরুতে বলেছিলাম “মাল্টি টাস্কিং” ভালোনা। ঠিক তাই। একসাথে সবকিছু শিখে ফেলতে চাইবেন কেন? যেকোনো একটা আগে ভালভাবে শিখুন। ইনকাম করা শুরু করুন তারপর না হয় অন্যগুলো নিয়ে ভাববেন।

যাইহোক এরকম আরও মোটিভেশনাল প্যাঁচাল ছাড়াও কোর্সে কি কি বিষয়বস্তু আছে সেগুলো দেখে আসুন। বর্তমানে শুধুমাত্র Udemy তে কোর্সটি পাওয়া যাচ্ছে। এই লিঙ্কে যেয়ে অন্তত দেখে আসুন কি কি আছে এই Complete Web Design in Bangla – from Zero 2 Hero কোর্সে।

পরিশেষে আবারও বলছি “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও নাহ”।

ওয়েব ডিজাইন কি? নতুনদের জন্য নির্দেশনা

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সহজভাবে আলোচনা এই আর্টিকেলে করা হল।আপনি যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন তাহলে অন্য কিছু শুরু করার আগে এই লেখাটি পড়ে নিন।

** যদিও শাব্দিক অর্থ ভিন্ন তবু ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট একি অর্থে ব্যাবহার করে এর শাব্দিক অর্থ লঙ্ঘন করা হচ্ছে।আপনি যদি বলেন আমি ওয়েব ডিজাইনার তাহলে ধরা হয় আপনি ডেভেলপমেন্ট এর কাজও জানেন।আসল অর্থ হল-ওয়েব ডেভেলপার=যে প্রোগ্রামার,কোডিং করে,অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করে।আর ওয়েব ডিজাইনার=যে ডিজাইন করে,সাইটের বাহ্যিক রুপ কেমন হবে তা তৈরী করে,কোডিং করেনা।

প্রত্যেক ওয়েব ডেভেলপার এর নিচের বিষয়গুলি জানা উচিৎ

  • কিভাবে www কাজ করে
  • এইচটিএমএল
  • সিএসএস
  • জাভাস্ক্রিপ্ট
  • এক্সএমএল
  • সার্ভার স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ
  • SQL দিয়ে ডেটাবেস বানানো

WWW – World Wide Web

WWW হচ্ছে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা সারা বিশ্বে ছড়ানো। WWW কেই বলা হয়ে থাকে Web.

এই ওয়েবে কম্পিউটারগুলো একটি অপরটির সাথে কিছু নিয়ম ও ভাষা ব্যাবহার করে যোগাযোগ করে থাকে।

W3C (The World Wide Web Consortium) এই ভাষা  এবং নিয়মগুলো তৈরী করে যাচ্ছে।

এইচটিএমএল- ওয়েবের ভাষা

এইচটিএমএল হচ্ছে ওয়েবের ভাষা, প্রত্যেক ওয়েব ডেভেলপারকে এর মৌলিক বিষয়াদি জানা চাই।

এইচটিএমএল এ  “markup tags” ব্যাবহার করা হয় ওয়েব পেজের লেআউট ও কনটেন্ট তৈরীর জন্য।

এইচটিএমএল tag <h1> ইংগিত করে এটা একটা header,এবং <p> একটা Paragraphp কে ইংগিত করে।

 

সিএসএস- ক্যাশক্যাডিং স্টাইল শিট

এটা দিয়ে এইচটিএমএল page কিভাবে দেখাবে তা ঠিক করা যায়।

যখন সিএসএস কোড গুলি আলাদা ভাবে সেভ করবেন তখন শুধু এই একটি ডকুমেন্ট এডিট করে পুরো এইচটিএমএল  পেজ চেহারা নিজের মত করে বদলে দিতে পারবেন।এই কাজ যদি এইচটিএমএল পেজে করতে হত তাহলে অনেক সময় বেশি লাগত এবং প্রতিটি পেজেই কোডগুলি লিখতে হত।

জাভাস্ক্রিপ্ট- ক্লাইন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং

জাভাস্ক্রিপ্ট ক্লাইন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং (ব্রাউজার স্ক্রিপ্টিং) এর জন্য ব্যাবহৃত হয়।এটা দিয়ে পেজে ডাইনামিক কনটেন্ট যোগ করতে পারবেন।

একটা জাভাস্ক্রিপ্ট statement দেখতে এমন: document.write(“<p>” + date + “</p>”)

 

এক্সএমএল- এক্সটেনসিবল মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ

এটা এইচটিএমএল এর পরিবর্তে ব্যাবহৃত হয় এমন নয় বরং এটা ডেটা বহন ও সংরক্ষন এর জন্য।

 

সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং

সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং হচ্ছে “programming” ওয়েব সার্ভারের জন্য।

পূর্নাঙ্গ ডাইনামিক কনট্ন্টে তৈরীর জন্য এটা জানতে হবে।Server-side scripting দ্বারা আপনি ডেটাবেস থেকে ডেটা তুলে এনে এইচটিএমএল page দেখাতে পারেন।(অনেক কাজের মধ্যে এটা একটা)

SQL দিয়ে ডেটাবেস বানানো

Structured Query Language (SQL) দিয়ে যেকোন ডেটাবেসে একসেস নিতে পারেন যেমন MySQL,Oracle ইত্যাদি।

এটা এমন একটা ইন্জিন যেটা দিয়ে ওয়েবে ডেটাবেসের সাথে তথ্য বিনিময় করা যায়।

 

জুমলা, ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল এসব কি?

এসব হচ্ছে CMS (Content Management System) এখানে সাধারনত সবকিছু তৈরী করা থাকে(PHP MySQL দিয়ে) আপনি শুধু নিজের মত করে এডিট করবেন।আপনি যদি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নাও জানেন তবুও এসব দিয়ে ডাইনামিক সাইট তৈরী করতে পারেন তবে যে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জানে সে এর কোড এডিট করে যত সুন্দর করতে পারবে আপনি তা পারবেননা।