পিএইচপির ৫টি চমকপ্রদ তথ্য

১. পিএইচপির বর্তমান ভার্সন হল ৫.৬ আর এ বছরের শেষের দিকে আসছে পিএইচপি ৭ ভার্সন। এ ভার্সনের প্রধান দুটি ফিচার হল

ইউনিকোড সাপোর্ট: পিএইচপির নতুন ভার্সনে বাংলাতেও ভেরিয়েবল ফাংশন ইত্যাদি লেখা যাবে। অর্থ্যাৎ পিএইচপি এখন ইউনিকোড সাপোর্টেড হতে যাচ্ছে।

দ্রুততা: আগের থেকে পিএইচপির এই ভার্সনের পারফরমেন্স প্রায় ২ গুন হয়ে যাবে। ফেসবুকের হিপহপ কমপাইলারের মত প্রযুক্তি থাকছে এখানে। একটা কনফারেন্সে পিএইচপির মুল ৩ জন নির্মাতার মধ্যে ১জন বলেছেন “ফেসবুকের হিপহপ আমাদের প্রযুক্তিটির competitor হবে

 

২. পৃথিবীর সর্বোচ্চ উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাক্তিদের মধ্যে ২ জন পিএইচপির নির্মাতা, অ্যান্ডি গাটম্যান এবং রাসমাস লার্ডফ (MIT রিপোর্ট অনুযায়ী)। তবে মজার ব্যাপার হল এদের একজনের লেখা পিএইচপির একটি বই আছে (নাম power php programming) তবে সেটা বেশি চলেনা।

 

৩. পিএইচপি দিয়েও ডেস্কটপ এপ্লিকেশন বানানো যায়। অন্যান্য ওয়েব ল্যাংগুয়েজের মত পিএইচপিরও একটা ল্যাংগুয়েজ bindings আছে GIMP toolkit এর জন্য।gtk.php.net এ আরও বিস্তারিত আছে।

 

৪. বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৪০ ভাগ ওয়েবসাইট, ওয়েব এপ্লিকেশন পিএইচপি দিয়ে বানানো, অন্যান্য সব ল্যাংগুয়েজ মিলে বাকি অংশ। পৃথিবীর বিখ্যাত যেসব কোম্পানী পিএইচপি ব্যবহার করে তাদের মধ্যে আছে yahoo (yahoo bookmark, yahoo answers, feedback এসব পিএইচপি দিয়ে বানানো), magento (পৃথিবীতে যেসব এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ইকমার্স সাইট দেখতেছেন এগুলির বেশির ভাগ ম্যাজেন্টো দিয়ে বানানো, ম্যাজেন্টো CMS টা আবার জেন্ড ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে বানানো), wikipedia, facebook, wordpress ইত্যাদি।

 

৫. আউটসোর্সিং সাইট যেমন ওডেস্ক (এখন নাম হয়েছে আপওয়ার্ক), ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদিতে প্রায় ৫০০ ধরনের কাজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭০% ভাগেরও বেশি পিএইচপির কাজ।

কেন পিএইচপি শিখবেন? কেন পিএইচপি বিখ্যাত?

পিএইচপি ল্যাংগুয়েজটি পৃথিবীতে মাত্র কয়েক বছর হয় এসছে। পিএইচপিকে “Big Boys” ল্যাংগুয়েজ বলা হয় পিএইচপি৫ ভার্সন আসার পর থেকে যেখানে জাভা, সি এসব ল্যাংগুয়েজকে অনেক আগে থেকে “Big Boys” বলা হত। পিএইচপি৫ ভার্সন এসছে ২০০৪ সালে। এসেই বাজিমাৎ। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৪০ ভাগ (প্রায় ২৫০ মিলিয়ন সাইট – ২০১৩ পর্যন্ত) ওয়েব এপ্লিকেশন (সাইট) একা পিএইচপিতে তৈরী বাকি সব ল্যাংগুয়েজ মিলে ৬০ ভাগ। হুট করে এসে এত বিখ্যাত হবার কারন আছে..

. প্রায় সব ডেটাবেস সমর্থন করে : মুল ৫ টি ডেটাবেস সহ (Oracle, MySQL, PostgreSQL, SQLServer, MongoDB) প্রায় সব ডেটাবেস দিয়ে পিএইচপির কাজ করা যায়। যেকোন ডেটাবেস integrate করা তেমন কঠিন নয় বরং বহুল ব্যবহৃত ডেটাবেসগুলির ড্রাইভার পিএইচপিতে অটোমেটিক সেট করাই আছে।

. পিএইচপি ইন্জিন মানুষের ব্রেইনের মত : অন্যান্য ল্যাংগুয়েজ এর তুলনায় পিএইচপির ইন্জিন বেশি বুদ্ধিমান। এটা এভাবে যে এখানে ডেটা টাইপ ডিক্লেয়ার করতে হয়না সে নিজেই নিজেই ডেটা দেখে বুঝতে পারে এটা কোন ধরনের ডেটা (loosely typed language)। এছাড়া এখানে টাইপ কাস্ট করা যায় ফলে অপ্রত্যাশিত ভুল হয়না।

. সাপোর্ট এবং কমিউনিটি : বেশ ঘন ঘনই পিএইচপির আপডেট বের হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই নতুন নতুন ফিচার যোগ করছে। এছাড়া পিএইচপির ব্যবহারকারী তথা কমিউনিটি অনেক বড়। অনেক। যেকোন সমস্যা হলে কোন ফোরামে প্রশ্ন দিলে যত তারাতারি সারা পাবেন অন্য ল্যাংগুয়েজে তা পাবেন না।

. শেখা সহজ এবং বড় প্রজেক্ট করা যায় : অন্যান্য ল্যাংগুয়েজের তুলনায় পিএইচপি শেখা সহজ। শুধু এইচটিএমএল এর মধ্যে কোড লিখে সার্ভারে রেখে ব্রাউজারে রান করালেই আউটপুট দেখতে পাচ্ছেন।

বর্তমানের পৃথিবীর সব বড় ওয়েব প্রজেক্টে পিএইচপি ব্যবহার হচ্ছে (যেমন ফেইসবুক, ম্যাজেন্টো ইত্যাদি) এবং পিএইচপি ৫ এ OOP এর পূর্নাঙ্গতা লাভ করাতে কোটি কোটি লাইন কোড লিখেও মেইনটিনেন্স এবং কোড রিফ্যাকটরিং ঝামেলার হচ্ছেনা। আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে প্রজেক্টে সময় কম লাগে ফলে খরচ কম কিন্তু কাজ বেশি হয়।

. ইহূদী ডেভলপার : পৃথিবীতে সবচেয়ে ট্যালেন্ট হচ্ছে ইহূদীরা। পৃথিবীর সব বড় বড় আবিষ্কার এবং প্রজেক্ট দেখবেন এদের তৈরী। ফেসবুকের জুকারবার্গ কিংবা পারমানবিক বোমার আবিষ্কারক আইনস্টাইন এরা ইহূদী। এমনকি বর্তমানেও পৃথিবীর সব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, গবেষক বেশিরভাগ ইহূদী। PHP এরও জন্মদাতা এন্ডি গাটম্যান, জিভ সুরাস্কি এবং আরো একজন এরা ইহূদী।

ইহূদীরা কেন এত ট্যালেন্ট এর কারন হিসেবে অনেক কথা প্রচলিত আছে, অনেকে বলে থাকে এরা মুসা (আ:) এর অনুসারী ছিল এবং এরাই ঐ জাতি যাদেরকে আল্লাহ জান্নাতের খাবার (খাবারটির নাম মান্না সালওয়া) খাইয়েছিলেন প্রায় ৪০ বছর। এমনকি ইতিহাসেও এমনটিই লেখা আছে। ধারনা করা হয় যেহেতু বর্তমান ইহূদীরা এদেরেই বংশধর এবং জান্নাতের খাবার খাওয়াতে এদের মেধা সাধারনের চেয়ে বেশি।