জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০১৭

দুষ্প্রাপ্য সব গাছের চারার সঙ্গে ঠাঁই পেয়েছে বনসাই; যোগ হয়েছে বাহারি সব ফুল-ফল আর ওষুধি গাছ। প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জাতীয় বৃক্ষমেলা।
পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের আয়োজনে শেরে বাংলানগরে বাণিজ্য মেলার মাঠে মাসব্যাপী এই মেলার শতাধিক স্টলে বরাবরের মতই বাহারি জাতের ফুল আর ফলের গাছের সমারোহই বেশি।

তবে এবারের মেলায় গুরুত্ব পেয়েছে অন্দরসজ্জায় গাছের ব্যবহার। নানা জাতের অর্কিড, ক্যাকটাস, পাতা-গুল্মের বাহার যোগ হয়েছে তাতে।

মেলাতেই মিলছে বীজ-সার ও পরিচর্যার নানা সরঞ্জাম। বাগান পরিচর্যা প্রশিক্ষণের জন্য কর্মশালার আয়োজনও আছে।

মেলায় এসেছে তিনশর বেশি জাতের গোলাপ। প্রকারভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গোলাপ চারার দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।

লালসালু, রঙ্গন, অ্যালামেন্ডা, নিমরাজ, হলুদ গন্ধরাজ, সোনালু, মাধবীলতা, ঝুমকোলতা, ক্লেমাটিস জুঁই, ল্যান্টোনার চারা মিলবে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকার মধ্যে।

নানা জাতের চেরি বৃক্ষের দাম পড়বে ১৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। পানি ফুল ২০০০ টাকা, কাঠ গোলাপ ৩০০০ টাকা, রাজহংসলতা মিলবে ১০০০ টাকায়।

নানা জাতের জবার চারা ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। সোনিয়া, রিনাপা হোয়াইট, মিস সিঙ্গাপুর, ইয়েলো এন্নে, অনসিডিয়ামসহ নানা জাতের অর্কিড পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

কত ফল বৃক্ষ

আম, লিচু, পেয়ারা, কাঁঠাল, তেঁতুল, জামরুল, করমচা, লেবুসহ নানা জাতের ফলের গাছের চারা মিলছে বৃক্ষমেলায়।

জাতীয় ফল কাঁঠালের চারা বড় ড্রামে কিনলে পড়বে ২০০০ টাকা, আর ছোট ড্রামে ১০০০ টাকা।

আমের নানা জাতের মধ্যে মেলায় এসেছে সূর্য ডিম, ইটওয়েন, মহাচনিক, কিং অফ চাপাকাত, জাম্বুরা, আম্রপালি, কিউজাই, ব্রুনাই বারোমাসি, ফজলি, তোতাপুরি, পালমার। প্রকারভেদে আমের চারার দাম ৬০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সৌদি খেঁজুর নার্সারিতে আছে আজোয়া ও মরিয়ম জাতের চারা। প্রকারভেদে দাম ৫০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

কাঁচা মিঠা, কাগজি, সিডলেস- নানা জাতের লেবুর চারার দাম পড়বে ২০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এরিক পাম, লোটানিয়া পাম মিলবে ৬০০ টাকার মধ্যে।

তেঁতুলের চারা ২ হাজার টাকা, আলুবোখারা ৮০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, আমলকি (থাই) ৮০০ টাকা, রাম্বুটান ২৫০০ টাকা, কামরাঙা ২ হাজার টাকা, থাই ফল বারাবা ২০ হাজার টাকা, কুল ২৫০ টাকা ও নানা জাতের পেয়ারা ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

নগরের ঘরে অরণ্যের সাজ

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেরই নজর ছিল ক্যাকটাস, এগনোলিমা আর বনসাইয়ের দিকে। বাসার ছোট বারান্দায় কিংবা ঘরের কোণে এসব গাছে গৃহসজ্জায় আসে সবুজের ছোঁয়া।

বরিশাল নার্সারির বিক্রেতা সেলিম খান জানান, ছোট থেকে বড় টবের ক্যাকটাস ২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে আসা পল্লী সেন্টার নার্সারিতে দেখা গেল চায়না বট, তেঁতুল, দেশি বট, পাকুড়, অর্জুন, পাইফোড়, ফাইকাস, মিরিজুয়া, বাহবাবের বনসাই।

প্রকারভেদে চায়না বটের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। তেঁতুল বট ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, অর্জুন ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার, পাইফোড় ৩০ হাজার টাকা, ফাইকাস ৩৫ হাজার টাকা, মিরিজুয়া ৩৫ হাজার টাকা, বাহবাব ৮০ হাজার টাকায় মিলছে।

মেলায় এসেছে প্রসেনিয়াম বনসাই। প্রকারভেদে এর দাম পড়বে ১০০০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা। চন্দন বট, চায়না বট, জিনসেন, কামিনীর বনসাইগুলোর দাম ৩০ হাজার পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। নাকাসুয়া বনসাইয়ের দাম ৫ হাজার টাকা।

ঘর সাজাতে পাতাবাহারের মধ্যে মিলবে নানা জাতের ফার্ন, ক্যাটালিয়া, অনসিডিয়াম, পলিসিয়াম, লাল প্যাশন দুল, অগ্নিস্বর, পিচু টিয়া, এয়ার কন্ডিশন, সালেম, প্যাগোডা, ভিক্টোরিয়া ড্রসিনা, ওয়াটার লিলি, এগনোলিমা, ফ্যালাগেন। উৎসবে ঘর সাজাতে ক্রিসমাস ট্রি, মিরান্ডা, ভূমিলিয়া, বাঁশপাতা, কালারিং কচুর দাম পড়বে ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা।

ক্যাকটাসের সেটের দাম পড়বে ৯০০ টাকা। ফার্নের দাম প্রকারভেদে ৬০০ থেকে শুরু হরে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

নজর আছে ওষুধি গাছেও

মেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের স্টলগুলোতে দেখা গেল ওষুধি বৃক্ষের সমাহার।

এর কোনোটি অজীর্ণ, জন্ডিস, বাত ব্যথা, উদরাময়, চর্ম রোগের নিরাময় করে, আবার কোনোটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এসব গাছ ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে বলে বিক্রেতারা জানালেন।

পোলাওপাতা, পুদিনা, দণ্ডকলস, মটকিলা, ছিটকি, বাসক, নিম, হাড়জোড়া, অপরাজিতা, লেমনগ্রাস, ঘৃতকুমারী, নীল, শিবজটা, বড় কালকেসুন্দা, সূর্যকন্যা, নাগমণি, চন্দন, নয়নতারা, অর্জুন, দাদমর্দনসহ নানা জাতের ওষুধি গাছ দেখা গেল মেলায়।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বোরিয়ামে দেখা মিলল সাদা লজ্জাবতী, থানকুনি, কালোমেঘ, শালপানি ও সর্পগন্ধার।

গাছের গায়ে গুনাগুণ লেখা স্টিকার দেখে ওষুধি বৃক্ষ কেনার আগ্রহ হয় তাঁতীবাজারের লাভলী ইসলামের।

তিনি বলেন, “এখানে এসে অনেক অচেনা ওষুধি গাছে সঙ্গে পরিচিত হলাম। বাবার আলসারের সমস্যা, তাই কিনেছি অর্শ্বগন্ধা। পুরনো চর্মরোগ সারাতে দাদমর্দনও নিলাম।”

ওষুধি গাছের দাম হাতের নাগালেই; ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ থেকে ৩ হাজার টাকাতেই মিলবে এসব গাছ।

বনজ ও দুর্লভ গাছ

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও বলধা গার্ডেনের স্টলে সাদা শাপলা, আমাজন লিলি, বিচিত্র বকুল, তালিটপাম ও ধুপের দেখা মিলবে। আরও আছে জ্যাকুইনিয়া, তেলসুর, বাজনা, বুদ্ধ নারকেল, আশঢল, কেশিয়া নডুসা, গোলাচি, অশোক, ছাতিয়ানের মতো বনজ বৃক্ষ। তবে সেসব শুধুই দেখা যাবে, কেনা যাবে না।